নরমাল ডেলিভারিতে আস্থা বাড়ছে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের
মামুন উর রশিদ রাসেল, সিনিয়র স্টাফ করেসপনডেন্ট, নীলফামারী : দেশে চিকিৎসা সেবায় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ার সাথে সাথে বিত্তবান ব্যক্তি এবং আরামপ্রিয় কিছু মানুষজন নরমাল ডেলিভারির কথা ভুলতে বসেছে। বর্তমান ৫০ শয্যা বিশিষ্ট ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারিতে আস্থা বাড়ছে সাধারণ মানুষের নিকট।
নীলফামারী জেলার ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে-এর দেয়া তথ্যানুযায়ী, ২০২১ সালে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ৫৮৪ জন প্রসূতি। ২০২২ সালে ১ হাজার ৮৮ জন এবং ২০২৩ সালে ১ হাজার ১৮৮ জন প্রসূতি। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে মাসে নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান জন্ম দিয়েছেন ১৮৩ জন প্রসূতি। সিজারিয়ানের মাধ্যমে প্রসব হয়েছে ২০২১ সালে ৪৭ জন শিশু, ২০২২ সালে ২১৬ জন শিশু এবং ২০২৩সালে ২৯১জন শিশু। চলতি বছরের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসে সিজার করা হয়েছে ৪৯ জনের।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ রায়হান বারী যোগদানের পর থেকে তার নিজস্ব তৎপরতায় চিকিৎসা সেবায় অমূ্ল্য পরিবর্তন হয়েছে। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে। নরমাল ডেলিভারির মাধ্যমে সন্তান প্রসব করার লক্ষে গর্ভবতী নারীদের হাসপাতালমূখী করতে হাসপাতালে এএনসি কমিউনিকেশন সেল তৈরী করা হয়েছে। সেখানে ৩টি শিপ্টে সার্বক্ষণিক ৮ জন মিডওয়াইফ কাজ করছেন। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি ওয়ার্ডে একদিনে ৭ জন শিশু জন্ম নেয়ার রেকর্ডও রয়েছে। ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি ওয়ার্ডের ইনচার্জ মিডওয়াইফ জান্নাতুল ফেরদৌসি জান্নাত জানান, গর্ভবতী নারীদের নিয়ে ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রতিমাসে ৪টি করে ভায়া ক্যাম্প ও ৪টি এনসি করা হয়। সেখান থেকে কাউন্সিলিং করে গর্ভবতী মায়েদের চেকআপের জন্য হাসপাতালে নিয়ে আসি। আমরা নামমাত্র মূল্যে গর্ভবতী মায়েদের আলট্রা স্নো গ্রাম, রক্ত ও প্রস্রাব টেষ্ট করে থাকি এবং ঝুকিপূর্ণ বিষয়গুলো অবগত করি। নরমাল ডেলিভারিতে উদ্বুদ্ধ করতে সন্তান প্রসব হওয়ার পর স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তার ব্যক্তিগত অর্থায়নে নবজাতককে গিফট প্রদান করা হয়। পাশাপাশি সন্তান জন্মের পর ৪২দিন পর্যন্ত নবজাতকের খোঁজ খবর নেই এবং সেবা দিয়ে থাকি। এ সবের কারণে নরমাল ডেলিভারির সংখ্যা ক্রমেই দিন দিন বাড়ছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃপঃ কর্মকর্তা ডাঃ রায়হান বারী জানান, এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে প্রাতিষ্ঠানিক নরমাল ডেলিভারি বৃদ্ধির লক্ষ্যে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এএনসি কমিউনিকেশন সেল তৈরী করে কাজ করে যাচ্ছি। সারা দেশের মধ্যে একমাত্র আমরাই গর্ভবতী মায়েদের জন্য মোবাইল সেবা চালু করেছি। যা দেশের অন্য কোন উপজেলায় নাই।